1 1 3000 1 300 120 30 https://www.techascentbd.com 1024
site-mobile-logo
site-logo

ইটিন (ETIN) সার্টিফিকেট, রেমিটেন্স সার্টিফিকেট, ফ্রিল্যান্সারদের উপার্জিত আয়ের আয়কর (Tax) এবং আয়কর বিবরণী ( Tax Return) ১ পাতার ট্যাক্স রিটার্ন (জিরো রিটার্ন)

আমরা যারা ফ্রিল্যান্সিং করি তারা মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজনে (ট্যাক্স ফর্ম সাবমিট করার জন্য) ই টিন এর আবেদন করে থাকি। এখন আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী আপনি ইটিন করলে, আপনাকে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে। পূর্বে ট্যাক্স রিটার্ন সবার জন্য বাধ্যতামূলক ছিল না। […]

আমরা যারা ফ্রিল্যান্সিং করি তারা মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজনে (ট্যাক্স ফর্ম সাবমিট করার জন্য) ই টিন এর আবেদন করে থাকি। এখন আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী আপনি ইটিন করলে, আপনাকে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে। পূর্বে ট্যাক্স রিটার্ন সবার জন্য বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে 2020 সাল থেকে যারা জমি ক্রয়ের জন্য এবং ক্রেডিট কার্ডের জন্য ইটিন করেন এবং তাদের আয় যদি আয়কর সীমা পার না হয় তবে তাদের ব্যাতীত অন্য সকলকে ট্যাক্স রিটার্ন দিতে হবে।

ট্যাক্স রিটার্ন টা হচ্ছে আপনি গত বছরে কি কি খাতে আয় করেছেন এবং কি কি খেতে ব্যয় করেছেন, আপনার কি সম্পদ আছে এই সকল বিবরণী উপস্থাপন করা। ( সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নহে)

Income-tax Ordinance, 1984 তে নিবাসী কেউ বিদেশের কারো কোন কাজ করে দেয়ার বিনিময়ে যে অর্থ পাবে তার উপর ১০% ট্যাক্স কেটে রাখার বিধান ছিল

কিন্তু অর্থ আইন, ২০১৮ তে এই আইন সংশোধন করে বলা হয়েছে নিবাসী কেউ বিদেশের কাউকে সফটওয়্যার ও সার্ভিসের বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থের উপর কোন কর কাটা হবে না। এই সংশোধনীতে 2024 সাল পর্যন্ত ফ্রিল্যান্সারদের আয় এর উপর কোন আইকর নেই। (অর্থ আইন, ২০১৮) (Note: এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই টাকা বৈধভাবে দেশে আনতে হবে। এখানে বৈধভাবে বলতে প্রপার ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা আনার পদ্ধত্তিকে বোঝানো হচ্ছে) আপনাকে ট্যাক্স দিতে না হলেও ট্যাক্স রিটার্ন দিতে হবে, আপনি যদি ট্যাক্স রিটার্ন না দেন তাহলে পরবর্তী বছরে আপনার এই আয় এর উপর ট্যাক্স চলে আসবে, এবং ট্যাক্স রিটার্ন না দেয়ার কারণে আপনাকে জরিমানাও দিতে হবে। তাই আপনাকে প্রতিবছর ট্যাক্স রিটার্ন দিতে হবে, এটা বাধ্যতামূলক।

ট্যাক্স রিটার্ন দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস:

1. ন্যাশনাল আইডি কার্ড এর কপি
2. পাসপোর্ট সাইজের ছবি
3. ই টিন সার্টিফিকেট এর কপি
4. ব্যাংক স্টেটমেন্ট ( ১ জুলাই ২০১৯ – ৩০ জুন ২০২০)
5. রেমিটেন্স সার্টিফিকেট।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট পাবেন যেভাবে: 

আপনি ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট চাইলেই তারা আপনাকে দিবে তবে কিছু কিছু ব্যাংক এ ক্ষেত্রে একটা চার্জ কেটে রাখে। ভাল হয় যদি আপনি আপনার ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা চালু করে নেন, তাহলে ব্যাংক থেকে আপনাকে একটা লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড দিবে। সেটা দিয়ে আপনি ঘরে বসেই আপনার ব্যাংক একাউন্টে লগইন করে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ডাউনলোড করতে পারবেন।

ব্যাংক থেকে যেভাবে রেমিটেন্স সার্টিফিকেট যেভাবে পাবেন: 

আপনারা যারা পেওনিয়ার ব্যাবহার করে লোকাল ব্যাংকে টাকা আনেন তারা সেই ব্যাংকগুলোর স্টেটমেন্ট নিন। এরপর ব্যাংক এশিয়া থেকে EFT হয়ে আশা লেনদেনগুলো চিনহিত করুন। আপনি যে কোন পিডিএফ এডিটর দিয়ে হাইলাইট করতে পারেন অথবা প্রিন্ট করে মার্ক করতে পারেন। এরপর এই স্টেটমেন্টগুলো নিয়ে ব্যাংক এশিয়া গিয়ে রেমিটেন্স সার্টিফিকেট এর ব্যাপারে বলতে হবে, ওরা অ্যাপ্লিকেশন ফরম দিবে সেটা পূরণ করে জমা দেওয়ার দু-তিন পর রেমিটেন্স সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে।

আপনার যদি পেওনিয়ার ছাড়া অন্য কোন মাধ্যমে টাকা আসে তাহলে যে ব্যাংকে আসছে সে ব্যাংক থেকে ও সাটির্ফিকেট নিতে হবে। তবে বেস্ট প্রাক্টিস হচ্ছে রেমিটেন্স এবং টেক্স রিটার্ন এর জন্য একটা ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করবেন। অন্যান্য ছোটখাট পারিবারিক লেনদেনের জন্য ভিন্ন একাউন্ট। তাহলে সরকারকে হিসাব দেখাতে সহজ হবে।

ইমেইল এর মাধ্যমে যেভাবে রেমিটেন্স সার্টিফিকেট পাবেন:

প্রথমে আপনি আপনার রেমিটেন্স ট্রানজেকশন মার্ক করা পিডিএফ ফাইল ব্যাংক স্টেটমেন্টটি ব্যাংক এশিয়ার কাস্টোমার সাপোটে ইমেইল (contact.center@bankasia-bd.com) করবেন, তার পর 16205 (এটা ব্যাংক এশিয়ার হেল্পলাইন)তে কল দিয়ে আপনি যে ইমেইল করেছেন সেটা জানাবেন। না জানালেও তার কনসার্ন ডিপার্টমেন্টে ফরোয়ার্ড করবে । ইমেইলের সাবজেক্ট হিসাবে আপনি যে অর্থবছরের (2020 সালের জন্য অর্থ বছর হবে 2020-2021) সার্টিফিকেট চান সেটা মেনশন করে ইমেইল করলে আপনাকে ইমেইলে সে সার্টিফিকেট পাঠায়ে দিবে। মনে রাখবেন এক্ষেত্রে 2-3 বা তার বেশি দিন লাগতে পারে।

রেমিটেন্স সাটিফিকেট

যেভাবে জিরো ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিবেন:

পূর্বে বলেছি এই বছর থেকে ট্যাক্স রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে আয়কর রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি সহজ এবং ভীতি কমানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের চেষ্টার ধারাবাহিকতায় এ বছর মাত্র এক পৃষ্ঠার রিটার্ন ফর্ম চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। নতুন এই রিটার্ন ফরম ‘IT-GHA2020’টি দাখিল করতে পারবেন তারা যাদের আয় ৪ লাখ টাকার বেশি না এবং মোট সম্পদ ৪০ লাখ টাকার বেশি না।

এক পৃষ্ঠার ট্যাক্স রিটার্ন ফর্ম

ফর্মের ডানপাশে ছবির ঘরে ১টি পার্সপোর্ট সাইজের ছবি স্ট্যাপলার পিন দিয়ে আটকিয়ে দিন। (ছবির পিছনে নিজের নামটা লিখে দিয়েন)। ১ নম্বর ঘরে নাম ও ২ নম্বর ঘরে টিন নাম্বার লিখুন। সার্কেল ও জোন আপনি আপনার টিন সার্টিফিকেটে পেয়ে যাবেন। ৫ নাম্বার ঘরে Resident এর ঘরে টিক দিন। ৭ নাম্বার ঘরে Assessment Year হবে 2020-2021

এবার টিন সার্টিফিকেট দেখুন সেখানে প্রেজেন্ট ও পারমানেন্ট এড্রেস দেওয়া আছে। ট্যাক্স রিটার্ন ফর্মেরও প্রেজেন্ট ও পারমানেন্ট এড্রেস ঘরে সেম এড্রেস দিন।

এবার ১০ নম্বার ঘরে ফ্রিল্যান্সিং করে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আপনি যে টাকা দেশে এনছেন তার মোট পরিমাণ লিখুন। (পরিমাণ আপনার রেমিটেন্স সার্টিফিকেটে আছে)। ১১ নাম্বারে Gross Wealth এর ঘরে আপনার ৩০জুন ২০২০ তারিখে ব্যাংক একাউন্টে কত ব্যালান্স/ক্রেডিট আছে সেটা লিখুন। ১৩ নাম্বার ঘরে Source of Income হিসেবে Freelancing লিখুন।

নোট: মুলত এক পেজের ফর্ম বা ৪ পেজের ফর্ম যেটাই জমা দনে আপনি ফ্রিল্যান্সর হলে আপনার জন্য বিষয়টা সহজ। আপনি প্রয়োজনীয় পেপার নিয়ে যাবেন। জমা দিতে গেলে ওখানের স্টাফরা সাধারণত অনেক বেশি হেল্পফুল এবং আন্তরিক। তাই তাদের সহায়তা নিবেন।

ফর্মের অপর পৃষ্ঠায় আপনি সংযুক্তি কাগজগুলো কি কি দিয়েছেন তা লিখবেন। অর্থ্যাৎ আইডি কার্ড, ব্যাংক স্টেটমেন্ট…… এগুলো। ফর্ম কম্পিলিট করে সব কাগজ সংযুক্ত করে আপনার কর অঞ্চলের অফিসে গিয়ে ফর্ম জমা দিয়ে আসবেন। ফর্মের নীচের অংশ হলো ‘Acknowledge Receipt’। ফর্ম জমা দেওয়ার পর এই অংশ আপনাকে ফেরত দেওয়া হবে এবং এইটা হচ্ছে আপনার টেক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার রিসিট/ প্রমাণ। এইটা যত্ন করে আপনার বাসার প্রয়োজনীয় কাগজ রাখার ফাইলে যত্ন করে সংরক্ষণ করে রাখুন, কারণ আগামী বছর রিটার্ন জমা দিতে এইটা আবার লাগবে।

Acknowledge Receipt

ট্যাক্স লইয়ার এর মাধ্যমে ট্যাক্স রিটার্ন

যাদের নিজের নামে সম্পদ আছে তারা টেক্স লয়ার এর মাধ্যমে করাটা ভালো। আমাদের আবু নাছের ভাই উনার পরিচিত লেয়াকত ভাই এর মাধ্যেমে জমা দিয়েছেন। https://www.facebook.com/leyakot.mazumder/ )। ঢাকায় হলে আপনারা উনার মাধ্যমে করিয়ে নিতে পারেন। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা চার্জ নিবেন। ফাইল রেডি থেকে জমা দেওয়া সব উনি করবেন। চাইলে শুধু ফাইল রেডি করিয়ে নিজে জমা দিতে পারেন।

কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর

১) কারা কারা ১ পেজের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন?

উত্তর: এক পাতার ফর্ম আইটি প্রফেশনালদের জন্য স্পেসিফিক না। সবার জন্যই যাদের সম্পদ ৪০ লাখের কম আরো দুটি শর্ত আছে। তবে সমস্য হল এ ফর্মে করমুক্ত আয় দেখানোর জায়গা নেই। তাই অন্য ফর্ম ইউজ করাই ভাল।

2) কোন ফ্রিল্যান্সাররা ৪ পেজের মূল ফর্ম জমা দিতে হবে?

উত্তর: ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আলাদা কোন ফর্ম নেই। সাধারণ ফর্ম যে গুলা এনবিআর কর্তৃক দেয়া থাকে সেই ফর্মে জমা দিতে হবে।

3) একাউন্টে ফ্রিল্যান্সিং ইনকাম ছাড়া অন্য ইনকাম থাকলে সেটা কিভাবে দেখাতে হবে?

উত্তর: একাউন্টে ফ্রিল্যান্সিং ইনকাম ছাড়া অন্য ইনকাম থাকলে ফমের্নকামের যে খাত গুলা এনবিআরে বলা আছে সেই খাতে দেখাতে হবে।

৪) ফ্রিল্যান্সিং এর পাশাপাশ অন্যান্য ইনকাম থাকলে সেটা কিভা দেখাতে হবে? 

উত্তর: একাউন্টে ফ্রিল্যান্সিং ইনকাম ছাড়া অন্য ইনকাম থাকলে ইনকামের যে খাত গুলা এনবিআরে ফর্মে বলা আছে সেই খাতে দেখাতে হবে। উক্ত খাতে যদি না মিলে তাহলে সেটাকে অন্যান্য খাতে ইনকাম দেখাতে হবে। তবে ইনকাম যদি ৩ লাখের বেশি হয় সেগুলোর জন্য নিয়ম অনুযায়ী ট্যাক্স দিতে হবে।

5) টেক্স রিটার্নের সাথে কি রেমিটেন্স সার্টিফিকেট দেওয়া বাধ্যতা মূলক যদি আয় ৩ লাখেরে নিচে হয়? 

উত্তর: টেক্স রিটার্নের সাথে কি রেমিটেন্স সার্টিফিকেট দেওয়া বাধ্যতা মূলক এই জন্য যে রেমিটেন্স সার্টিফিকেট না দিলে বুঝায উপায় নাই যে এই টাকাটা রেমিটেন্স না অন্য খাতে ইনকাম।

Latest News
Previous Post
IMO তে Permanent...
Next Post
0 Comments
Leave a Reply